ঢাকা , শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন রাজবাড়ীতে মাদকদ্রব্যর অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ও আলোচনা সভা রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল আটক রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প (ফেইজ-২) বাস্তবায়ন বিষয়ক সাধারণ সমন্বয় সভা সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী রামকান্তপুর ইউনিয়ন ও পৌর নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোহেল রানা। ঈদুল ফিতর’ উপলক্ষে চন্দনী ইউনিয়বাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ কামনা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-শাহিনুর পৌরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা মীর সজল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকেঈদের শুভেচ্ছা কাজী ইরাদত আলীর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

৭১’এ রাজবাড়ীর ঠাকুর পরিবারের ৬ জন নিহতের  ৪৫ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি  

আল-আমিন, রাজবাড়ী  টুডে: ১৯৭১ সাল থেকেই বুকের ভিতরে কষ্ঠ নিয়ে বেচে আছি। চোখের সামনে বাবা মা ভাইসহ পরিবারের ছয়জন কে নির্মমভাবে হত্যা হতে দেখেছি। হারিয়েছি জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় বাবা মাকে। ছোট বেলা থেকেই এতিম হয়ে বড় হয়েছি। যে বয়সে বাবার হাত ধরে বড় হবার কথা ছিলো সে বয়সে বুকে চেপেছি আপন জন হারানোর বেদনা। আজ ২০১৬ সাল। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫টি বছর পার হয়ে গেলেও মেলেনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। এখন শুধু বাড়িতে সেই ৬জনকে যেখানে গণ কবর দেওয়া হয়েছিলো সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরীর দাবী জানাই। আর জীবনের শেষ ইচ্ছে মরার আগে যেন স্মৃতিস্তম্ভটি দেখে যেতে পারি’-কথা গুলো বলছিলেন জেলা সদরের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রামের বাড়ইপাড়ার ঠাকুর পরিবারের প্রবীর কুমার (৫৫)।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে জেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রাম তৎকালীন নিমতলা গ্রামে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী যুবকদের কে সংগঠিত করে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করছিলেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও তৎকালীন নিমতলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কালিপদ ঠাকুর। কিন্তু তার এই দেশপ্রেম দেখে ক্ষুব্ধ হয় তৎকালীন পিচ কমিটির (শান্তি কমিটি) চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ মিয়া।

১৯৭১ সালের ১১ই মে ২৭শে বৈশাখ বেলা ১১টার দিকে মুক্তিকামী যুবকরা যখন কালিপদ ঠাকুরের বাড়িতে দেশ রক্ষার চেষ্টায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলো ঠিক তখনই তাদের উপরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে পিচ কমিটির সদস্যরা। একে একে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কারিপদ ঠাকুরকে,কালিপদ ঠাকুরের মা সরলা দেবীকে, স্ত্রী উষা রাণীকে, ছোট ছেলে প্রদ্যুত কুমারকে, বোন জামাই অনিল চৌধুরীকে, অনিলের ছেলে অবনী চৌধুরীকে।এ সময় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকায় প্রাণে বেচে যান প্রবীর কুমার (৫৫)।

এদের কে হত্যা করে পিচ কমিটির সদস্যরা চলে গেলে মুক্তিকামী যুবক সাত্তার, ওহাব(যার নামে পরবর্তীতে নিমতলা শহীদ ওহাবপুর নাম করন করা হয়), সোহরাব, কুটি খা এগিয়ে এসে ৬টি নিথর মরদেহ উদ্ধার করে ঠাকুরের বাড়িতে তৈরী করা একটি মাটির নিচের ব্যাকারের মধ্যে গণ কবর দেয়।

সেই হত্যাকান্ডে প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রবীর কুমারের ছোট ভাই পঙ্কজ কুমার জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশ স্বাধীন হলেও আর কেও তাদের খোজ খবর নেয়নি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও ঠাকুর পরিবার পায়নি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। এখন অপেক্ষা কবে নির্মান হবে গণকবরের উপরে স্মৃতিস্তম্ভ।

এ ব্যাপারে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজবাড়ী সদর উপজেলা কমান্ডার মোঃ আব্দুল জলিল জানান, শহীদওহাবপুরে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ঠাকুর পরিবারের গণকবরের উপরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরীর জন্য প্রস্তাবণা পেশ করা হয়েছে। জমি নির্ধারনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি দ্রুত সেখানে শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করা হবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

Meraj Gazi

জনপ্রিয় পোস্ট

রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন

৭১’এ রাজবাড়ীর ঠাকুর পরিবারের ৬ জন নিহতের  ৪৫ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি  

আপডেটের সময় : ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭

আল-আমিন, রাজবাড়ী  টুডে: ১৯৭১ সাল থেকেই বুকের ভিতরে কষ্ঠ নিয়ে বেচে আছি। চোখের সামনে বাবা মা ভাইসহ পরিবারের ছয়জন কে নির্মমভাবে হত্যা হতে দেখেছি। হারিয়েছি জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় বাবা মাকে। ছোট বেলা থেকেই এতিম হয়ে বড় হয়েছি। যে বয়সে বাবার হাত ধরে বড় হবার কথা ছিলো সে বয়সে বুকে চেপেছি আপন জন হারানোর বেদনা। আজ ২০১৬ সাল। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫টি বছর পার হয়ে গেলেও মেলেনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। এখন শুধু বাড়িতে সেই ৬জনকে যেখানে গণ কবর দেওয়া হয়েছিলো সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরীর দাবী জানাই। আর জীবনের শেষ ইচ্ছে মরার আগে যেন স্মৃতিস্তম্ভটি দেখে যেতে পারি’-কথা গুলো বলছিলেন জেলা সদরের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রামের বাড়ইপাড়ার ঠাকুর পরিবারের প্রবীর কুমার (৫৫)।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে জেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর গ্রাম তৎকালীন নিমতলা গ্রামে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী যুবকদের কে সংগঠিত করে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করছিলেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও তৎকালীন নিমতলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কালিপদ ঠাকুর। কিন্তু তার এই দেশপ্রেম দেখে ক্ষুব্ধ হয় তৎকালীন পিচ কমিটির (শান্তি কমিটি) চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ মিয়া।

১৯৭১ সালের ১১ই মে ২৭শে বৈশাখ বেলা ১১টার দিকে মুক্তিকামী যুবকরা যখন কালিপদ ঠাকুরের বাড়িতে দেশ রক্ষার চেষ্টায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলো ঠিক তখনই তাদের উপরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে পিচ কমিটির সদস্যরা। একে একে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কারিপদ ঠাকুরকে,কালিপদ ঠাকুরের মা সরলা দেবীকে, স্ত্রী উষা রাণীকে, ছোট ছেলে প্রদ্যুত কুমারকে, বোন জামাই অনিল চৌধুরীকে, অনিলের ছেলে অবনী চৌধুরীকে।এ সময় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকায় প্রাণে বেচে যান প্রবীর কুমার (৫৫)।

এদের কে হত্যা করে পিচ কমিটির সদস্যরা চলে গেলে মুক্তিকামী যুবক সাত্তার, ওহাব(যার নামে পরবর্তীতে নিমতলা শহীদ ওহাবপুর নাম করন করা হয়), সোহরাব, কুটি খা এগিয়ে এসে ৬টি নিথর মরদেহ উদ্ধার করে ঠাকুরের বাড়িতে তৈরী করা একটি মাটির নিচের ব্যাকারের মধ্যে গণ কবর দেয়।

সেই হত্যাকান্ডে প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রবীর কুমারের ছোট ভাই পঙ্কজ কুমার জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশ স্বাধীন হলেও আর কেও তাদের খোজ খবর নেয়নি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও ঠাকুর পরিবার পায়নি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। এখন অপেক্ষা কবে নির্মান হবে গণকবরের উপরে স্মৃতিস্তম্ভ।

এ ব্যাপারে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজবাড়ী সদর উপজেলা কমান্ডার মোঃ আব্দুল জলিল জানান, শহীদওহাবপুরে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ঠাকুর পরিবারের গণকবরের উপরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরীর জন্য প্রস্তাবণা পেশ করা হয়েছে। জমি নির্ধারনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি দ্রুত সেখানে শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করা হবে।