ঢাকা , শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৪ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন রাজবাড়ীতে মাদকদ্রব্যর অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ও আলোচনা সভা রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল আটক রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প (ফেইজ-২) বাস্তবায়ন বিষয়ক সাধারণ সমন্বয় সভা সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী রামকান্তপুর ইউনিয়ন ও পৌর নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোহেল রানা। ঈদুল ফিতর’ উপলক্ষে চন্দনী ইউনিয়বাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ কামনা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-শাহিনুর পৌরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা মীর সজল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকেঈদের শুভেচ্ছা কাজী ইরাদত আলীর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

শেখ হাসিনার অধিনেই জাতীয় নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬
  • ৯ ভিউয়ের সময়

বিশেষ প্রতিনিধি(রাজবাড়ী টুডে): অবশেষে শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাওয়া কথা ভাবছে বিএনপি। বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন, নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপিই ক্ষমতায় আসবে। সেই নির্বাচন যার অধীনেই হোক। কোনো নেতার মতে, অন্ততপক্ষে বেশ সংখ্যক অাসন নিয়ে বিরোধী দলেও যাওয়া যাবে। এমন নানা আলোচনা চলছে ভিতরে ভিতরে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ‘সরকারের ওপর দেশি-বিদেশি চাপ রয়েছে সবার অংশগ্রহণের নির্বাচন করতে। এছাড়াও গেলো জাতীয় নির্বাচনসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেনি। এই ক্ষোভ থেকে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকেই জনগণ ভোট দিবে।’তাই যেকোন পদ্ধতির নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে অনেক নেতা।

এর আগে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন নয়, এই দাবিতে অনড় অস্থানে থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

সেই নির্বাচন ঠেকাতে টানা কর্মসূচিও দেয় জোট। কিন্তু বিএনপি বিহীন নির্বাচন করেই ফেলে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার। নির্বাচনে অংশ না নেয়ায়,তার পর থেকেই সংসদীয় বিরোধীদল থেকেও ছিটকে যায় বিএনপি।

তার পর থেকেই সভা-সমাবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বক্তব্য দিতে থাকেন নেতারা। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া নিজেও বিভিন্ন সময় বলে আসছেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন নয়।’

এই কঠোর অবস্থানে থেকে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ‘একতরফা নির্বাচনের’ বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচি দেয় বিএনপি। কিন্তু এক দিন আগে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে অবস্থান করে টানা ৯৩ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী । কোন প্রস্তুতি ছাড়া সেই আন্দোলনে ফল আসেনি। উল্টো এই সময়ে সারা দেশে পেট্রোলবোমায় হতাহত হন অসংখ্য মানুষ।

বিএনপি অস্বীকার করলেও, এর দায়ে সারা দেশের নেতাকর্মীদের নামে হতে থাকে একের পর এক মামলা। এলাকা ছাড়া হন বিএনপির অনেক প্রভাবশালী নেতাও। আত্মগোপনে চলে যান বিএনপির শীর্ষ নেতারাও। শুধু তৃণমূলে কিছুটা সক্রিয় দেখা যায় নেতাকর্মীদের। সেই ইস্যুতে মাঠ ছাড়া হয় বিএনপি। নেতাদের দাবি মতে, এখনো লক্ষাধিক মামলা বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘাড়ে। বাদ যাননি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও।

তৃণমূলের অনেক নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়ার খেসারতে এখন মৃত প্রায় বিএনপি। যদিও ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আপোষহীনতার কারনে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেনি। আর সেই নির্বাচনে গেলো ফলাফল ভালো হতো না, এমন কথাও বলেছেন অনেকেই।

বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, সরকার দ্রুতই একটি জাতীয় নির্বাচন দিতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীও দলীয় নেতাদের এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগের ভিতরেও আগাম নির্বাচনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বলে খবরও প্রকাশ পায়।

এদিকে রবিবার রংপুরে এক অনষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন ১ অক্টোবর থেকে আগামী নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন তিনি। এতে করে অনেকেই মনে করছেন শিগগিরি একটি জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

বর্তমান সংবিধান অনুসারে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই। সেই নির্বাচনে কি অংশ নেবে বিএনপি? এমন প্রশ্নের উত্তর শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দিয়েছেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,’দেশের মানুষ একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন চায়। আসুন না একটা নির্বাচন করি। হোক না তা শেখ হাসিনার অধিনে। এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

দুদু আরও বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কার কোন দায়িত্ব, কে কি কাজ করবে, র্যাবে কে থাকবে, পুলিশে কে থাকবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এতোদিন ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নয়’ এমন কথা বললেও বিএনপির সিনিয়র এই নেতার ভিন্ন বক্তব্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে ১৮ আগস্ট বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও নির্বাচনের অংশ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে বৈঠকে এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,’বিএনপি সব সময় নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। তবে তা হতে হবে গ্রহণযোগ্য।’

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

Meraj Gazi

জনপ্রিয় পোস্ট

রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন

শেখ হাসিনার অধিনেই জাতীয় নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি?

আপডেটের সময় : ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি(রাজবাড়ী টুডে): অবশেষে শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাওয়া কথা ভাবছে বিএনপি। বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন, নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারলে বিএনপিই ক্ষমতায় আসবে। সেই নির্বাচন যার অধীনেই হোক। কোনো নেতার মতে, অন্ততপক্ষে বেশ সংখ্যক অাসন নিয়ে বিরোধী দলেও যাওয়া যাবে। এমন নানা আলোচনা চলছে ভিতরে ভিতরে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ‘সরকারের ওপর দেশি-বিদেশি চাপ রয়েছে সবার অংশগ্রহণের নির্বাচন করতে। এছাড়াও গেলো জাতীয় নির্বাচনসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেনি। এই ক্ষোভ থেকে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকেই জনগণ ভোট দিবে।’তাই যেকোন পদ্ধতির নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে অনেক নেতা।

এর আগে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন নয়, এই দাবিতে অনড় অস্থানে থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

সেই নির্বাচন ঠেকাতে টানা কর্মসূচিও দেয় জোট। কিন্তু বিএনপি বিহীন নির্বাচন করেই ফেলে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার। নির্বাচনে অংশ না নেয়ায়,তার পর থেকেই সংসদীয় বিরোধীদল থেকেও ছিটকে যায় বিএনপি।

তার পর থেকেই সভা-সমাবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বক্তব্য দিতে থাকেন নেতারা। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া নিজেও বিভিন্ন সময় বলে আসছেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন নয়।’

এই কঠোর অবস্থানে থেকে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ‘একতরফা নির্বাচনের’ বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচি দেয় বিএনপি। কিন্তু এক দিন আগে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে অবস্থান করে টানা ৯৩ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী । কোন প্রস্তুতি ছাড়া সেই আন্দোলনে ফল আসেনি। উল্টো এই সময়ে সারা দেশে পেট্রোলবোমায় হতাহত হন অসংখ্য মানুষ।

বিএনপি অস্বীকার করলেও, এর দায়ে সারা দেশের নেতাকর্মীদের নামে হতে থাকে একের পর এক মামলা। এলাকা ছাড়া হন বিএনপির অনেক প্রভাবশালী নেতাও। আত্মগোপনে চলে যান বিএনপির শীর্ষ নেতারাও। শুধু তৃণমূলে কিছুটা সক্রিয় দেখা যায় নেতাকর্মীদের। সেই ইস্যুতে মাঠ ছাড়া হয় বিএনপি। নেতাদের দাবি মতে, এখনো লক্ষাধিক মামলা বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘাড়ে। বাদ যাননি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও।

তৃণমূলের অনেক নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়ার খেসারতে এখন মৃত প্রায় বিএনপি। যদিও ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আপোষহীনতার কারনে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেনি। আর সেই নির্বাচনে গেলো ফলাফল ভালো হতো না, এমন কথাও বলেছেন অনেকেই।

বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, সরকার দ্রুতই একটি জাতীয় নির্বাচন দিতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীও দলীয় নেতাদের এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগের ভিতরেও আগাম নির্বাচনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বলে খবরও প্রকাশ পায়।

এদিকে রবিবার রংপুরে এক অনষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন ১ অক্টোবর থেকে আগামী নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন তিনি। এতে করে অনেকেই মনে করছেন শিগগিরি একটি জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

বর্তমান সংবিধান অনুসারে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই। সেই নির্বাচনে কি অংশ নেবে বিএনপি? এমন প্রশ্নের উত্তর শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দিয়েছেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,’দেশের মানুষ একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন চায়। আসুন না একটা নির্বাচন করি। হোক না তা শেখ হাসিনার অধিনে। এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

দুদু আরও বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কার কোন দায়িত্ব, কে কি কাজ করবে, র্যাবে কে থাকবে, পুলিশে কে থাকবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এতোদিন ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নয়’ এমন কথা বললেও বিএনপির সিনিয়র এই নেতার ভিন্ন বক্তব্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে ১৮ আগস্ট বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও নির্বাচনের অংশ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে বৈঠকে এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,’বিএনপি সব সময় নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। তবে তা হতে হবে গ্রহণযোগ্য।’