ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন রাজবাড়ীতে মাদকদ্রব্যর অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ও আলোচনা সভা রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল আটক রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প (ফেইজ-২) বাস্তবায়ন বিষয়ক সাধারণ সমন্বয় সভা সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী রামকান্তপুর ইউনিয়ন ও পৌর নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোহেল রানা। ঈদুল ফিতর’ উপলক্ষে চন্দনী ইউনিয়বাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ কামনা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-শাহিনুর পৌরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা মীর সজল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকেঈদের শুভেচ্ছা কাজী ইরাদত আলীর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

বৈঠকেও সমাধান নেই নৌ ধর্মঘটে দুর্ভোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৬
  • ১০২ ভিউয়ের সময়

নৌযান মালিকদের সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোসহ ৪টি মূল দাবির বিষয়ে মালিকদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এর ফলে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত ছিল। গতকাল শ্রমিক পরিদপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে বেশিরভাগ পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে, এর আগে বুধবার শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়েও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি না থাকায় তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠকটি। দাবি পূরণে কোনো প্রতিশ্রুতি না আসায় ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম। তবে সিদ্ধান্ত না হলেও বৈঠকে অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে সরকারের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত না হলেও দুটি বৈঠকেই এ ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে। শ্রম পরিদপ্তরের পরিচালক এফএম আশরাফুজ্জামান বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আবারও বৈঠক হবে। শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট সত্ত্বেও নৌযান চলাচল স্বাভবিক রয়েছে বলে মালিকদের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, বুধবার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অর্ধশত লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। গতকালও কিছু লঞ্চ ছেড়ে গেছে। গতকাল দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে শ্রম মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে। বুধবার একটি বৈঠক ছিল, সেখানে শ্রমিকরা এলেও মালিকরা আসেননি। মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ধর্মঘট নয়, কর্মবিরতি পালন করছে। ধর্মঘট বা কর্মবিরতি যাই হোক দুর্ভোগ হচ্ছে এটা ঠিক। এজন্য মালিকদের খামখেয়ালিপনা আছে। ব্যবসায় আয় অনেক বেড়েছে। সেই হিসেবে শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি। তবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া শ্রমিকদেরও এভাবে আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হয়নি। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে নৌ পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এর আগে ২৪শে এপ্রিল ধর্মঘটের সময় শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পূরণে একটা কমিটি করা হয়েছিল। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এই কমিটির প্রধান। তবে শ্রমিকদের সুবিধাদি বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাস্তবায়ন না করে এর বিরুদ্ধে দু’জন কার্গো মালিক হাইকোর্টে যান। মূলত এ কারণেই এবার শ্রমিকরা নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
মংলা প্রতিনিধি জানান, লাগাতার নৌ ধর্মঘটে মংলাবন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। তৃতীয় দিনের মতো গতকালও মংলাবন্দরে জাহাজে মালামাল ওঠা-নামার কাজ বন্ধ ছিল। বন্দরের পশুর ও মংলা চ্যানেলে কয়েকশ’ বার্জ, কার্গো ও কোস্টার জাহাজ নোঙর করে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। লাগাতার এ ধর্মঘটে মংলাবন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী গোলাম মোক্তাদের জানান, মংলাবন্দরে বর্তমানে গম, ক্লিংকার, সার ও পাথরসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ৯টি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। প্লেসমেন্ট (লাইটার, কোস্টার)-এর অভাবে সোমবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ রয়েছে এসব জাহাজের পণ্য ওঠা-নামার কাজ। তবে বন্দরের জেটিতে যথারীতি কাজ চলছে। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মংলা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মাস্টার জানান, শ্রম মজুরি বৃদ্ধি, মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনঃনির্ধারণ, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ এবং নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকরা সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটের পর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। তিনি আরো জানান, ১৫ দফা দাবি আদায়ের জন্য চলতি বছর এ নিয়ে তিনবার ধর্মঘট করেছেন নৌ শ্রমিকরা। প্রতিবারই মালিক পক্ষ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করিয়ে নেন। কিন্তু এবার দাবি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। চলমান ধর্মঘটের ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকায় পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে গতকাল বিকালে মংলার শ্রম কল্যাণ রোডে নৌযান শ্রমিকদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা নৌযান শ্রমিকদের দাবিসমূহ অবিলম্বে মেনে নেয়ার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। ওদিকে, টানা তিনদিন জাহাজের পণ্য খালাস কাজ বন্ধ থাকায় মংলাবন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন শিপিং ব্যবসায়ী ও আমদানি কারকরা। মংলাবন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু এন্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল বলেন, নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে সোমবার মধ্যরাত থেকে জাহাজের মাল খালাস কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারক ও শিপিং ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। সময় মতো পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় ব্যবসার চরম ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, বন্দরে অবস্থানরত টাইম চার্টারের জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়ে বন্দর ত্যাগ না করতে পারায় শিপিং এজেন্টদের প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার ইউএস ডলার করে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। অবিলম্বে এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে মংলাবন্দরকে সচল রাখার জন্য তিনি নৌযান শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা প্রদানসহ ১৫ দফা দাবিতে টানা তিন দিন ধরে চলছে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট। ধর্মঘটের ফলে স্থানীয় রুটের লঞ্চ এবং মালবাহী লাইটারেজ জাহাজ ও জ্বালানিবাহী অয়েল ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ৩ দিন ধরে স্থানীয় রুটের লঞ্চ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। এদিকে মালামাল ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য সংকটের আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বেকায়দায়।
স্থানীয় রুটের লঞ্চ এবং পণ্য ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল টানা ৩ দিন ধরে বন্ধ থাকলেও ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী লঞ্চ। গত বুধবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি সুরভী-৯, এমভি সুন্দরবন-৭, এমভি পারাবত-৯ ও এমভি পারাবত-১১ টইটুম্বুর যাত্রী নিয়ে গতকাল ভোরে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছেছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য রুটেও ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ এসেছে। একইভাবে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুট থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো গতকাল ভোরে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছেছে। ধর্মঘটে নৌযান শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, মালিকরা দূরপাল্লার লঞ্চ চালাতে শ্রমিকদের বাধ্য করছেন। তবে মালিক কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় লঞ্চ চালাচ্ছে। এদিকে ধর্মঘটের সমর্থনে গতকাল সকাল ১১টায় বরিশাল নদী বন্দরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। সমাবেশে দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. গিয়াসউদ্দিন। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরিশাল নদী বন্দরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

Meraj Gazi

জনপ্রিয় পোস্ট

রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন

বৈঠকেও সমাধান নেই নৌ ধর্মঘটে দুর্ভোগ

আপডেটের সময় : ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৬

নৌযান মালিকদের সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোসহ ৪টি মূল দাবির বিষয়ে মালিকদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এর ফলে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত ছিল। গতকাল শ্রমিক পরিদপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে বেশিরভাগ পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে, এর আগে বুধবার শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়েও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি না থাকায় তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠকটি। দাবি পূরণে কোনো প্রতিশ্রুতি না আসায় ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম। তবে সিদ্ধান্ত না হলেও বৈঠকে অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে সরকারের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত না হলেও দুটি বৈঠকেই এ ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে। শ্রম পরিদপ্তরের পরিচালক এফএম আশরাফুজ্জামান বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আবারও বৈঠক হবে। শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট সত্ত্বেও নৌযান চলাচল স্বাভবিক রয়েছে বলে মালিকদের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, বুধবার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অর্ধশত লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। গতকালও কিছু লঞ্চ ছেড়ে গেছে। গতকাল দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে শ্রম মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে। বুধবার একটি বৈঠক ছিল, সেখানে শ্রমিকরা এলেও মালিকরা আসেননি। মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ধর্মঘট নয়, কর্মবিরতি পালন করছে। ধর্মঘট বা কর্মবিরতি যাই হোক দুর্ভোগ হচ্ছে এটা ঠিক। এজন্য মালিকদের খামখেয়ালিপনা আছে। ব্যবসায় আয় অনেক বেড়েছে। সেই হিসেবে শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি। তবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া শ্রমিকদেরও এভাবে আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হয়নি। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে নৌ পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এর আগে ২৪শে এপ্রিল ধর্মঘটের সময় শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া পূরণে একটা কমিটি করা হয়েছিল। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এই কমিটির প্রধান। তবে শ্রমিকদের সুবিধাদি বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাস্তবায়ন না করে এর বিরুদ্ধে দু’জন কার্গো মালিক হাইকোর্টে যান। মূলত এ কারণেই এবার শ্রমিকরা নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
মংলা প্রতিনিধি জানান, লাগাতার নৌ ধর্মঘটে মংলাবন্দর স্থবির হয়ে পড়েছে। তৃতীয় দিনের মতো গতকালও মংলাবন্দরে জাহাজে মালামাল ওঠা-নামার কাজ বন্ধ ছিল। বন্দরের পশুর ও মংলা চ্যানেলে কয়েকশ’ বার্জ, কার্গো ও কোস্টার জাহাজ নোঙর করে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। লাগাতার এ ধর্মঘটে মংলাবন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী গোলাম মোক্তাদের জানান, মংলাবন্দরে বর্তমানে গম, ক্লিংকার, সার ও পাথরসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ৯টি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। প্লেসমেন্ট (লাইটার, কোস্টার)-এর অভাবে সোমবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ রয়েছে এসব জাহাজের পণ্য ওঠা-নামার কাজ। তবে বন্দরের জেটিতে যথারীতি কাজ চলছে। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মংলা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মাস্টার জানান, শ্রম মজুরি বৃদ্ধি, মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনঃনির্ধারণ, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ এবং নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকরা সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটের পর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। তিনি আরো জানান, ১৫ দফা দাবি আদায়ের জন্য চলতি বছর এ নিয়ে তিনবার ধর্মঘট করেছেন নৌ শ্রমিকরা। প্রতিবারই মালিক পক্ষ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করিয়ে নেন। কিন্তু এবার দাবি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। চলমান ধর্মঘটের ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকায় পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে গতকাল বিকালে মংলার শ্রম কল্যাণ রোডে নৌযান শ্রমিকদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা নৌযান শ্রমিকদের দাবিসমূহ অবিলম্বে মেনে নেয়ার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। ওদিকে, টানা তিনদিন জাহাজের পণ্য খালাস কাজ বন্ধ থাকায় মংলাবন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন শিপিং ব্যবসায়ী ও আমদানি কারকরা। মংলাবন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু এন্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল বলেন, নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে সোমবার মধ্যরাত থেকে জাহাজের মাল খালাস কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারক ও শিপিং ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। সময় মতো পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় ব্যবসার চরম ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, বন্দরে অবস্থানরত টাইম চার্টারের জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়ে বন্দর ত্যাগ না করতে পারায় শিপিং এজেন্টদের প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার ইউএস ডলার করে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। অবিলম্বে এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে মংলাবন্দরকে সচল রাখার জন্য তিনি নৌযান শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা প্রদানসহ ১৫ দফা দাবিতে টানা তিন দিন ধরে চলছে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট। ধর্মঘটের ফলে স্থানীয় রুটের লঞ্চ এবং মালবাহী লাইটারেজ জাহাজ ও জ্বালানিবাহী অয়েল ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ৩ দিন ধরে স্থানীয় রুটের লঞ্চ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। এদিকে মালামাল ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য সংকটের আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বেকায়দায়।
স্থানীয় রুটের লঞ্চ এবং পণ্য ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল টানা ৩ দিন ধরে বন্ধ থাকলেও ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী লঞ্চ। গত বুধবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি সুরভী-৯, এমভি সুন্দরবন-৭, এমভি পারাবত-৯ ও এমভি পারাবত-১১ টইটুম্বুর যাত্রী নিয়ে গতকাল ভোরে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছেছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য রুটেও ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ এসেছে। একইভাবে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুট থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো গতকাল ভোরে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছেছে। ধর্মঘটে নৌযান শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, মালিকরা দূরপাল্লার লঞ্চ চালাতে শ্রমিকদের বাধ্য করছেন। তবে মালিক কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় লঞ্চ চালাচ্ছে। এদিকে ধর্মঘটের সমর্থনে গতকাল সকাল ১১টায় বরিশাল নদী বন্দরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। সমাবেশে দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. গিয়াসউদ্দিন। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরিশাল নদী বন্দরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।