ঢাকা , রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন রাজবাড়ীতে মাদকদ্রব্যর অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ও আলোচনা সভা রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল আটক রাজবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প (ফেইজ-২) বাস্তবায়ন বিষয়ক সাধারণ সমন্বয় সভা সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে-প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী রামকান্তপুর ইউনিয়ন ও পৌর নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোহেল রানা। ঈদুল ফিতর’ উপলক্ষে চন্দনী ইউনিয়বাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ কামনা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-শাহিনুর পৌরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা মীর সজল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকেঈদের শুভেচ্ছা কাজী ইরাদত আলীর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

‘অবশেষে বন্ধ হলো একটি বাল্যবিবাহ’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৬
  • ২৮৪ ভিউয়ের সময়

খন্দকার রবিউল ইসলাম: রাজবাড়ীর মিজানপুর ইউনিয়নের মাইছা ঘাটা এলাকার ৬নং ওয়ার্ডে একটি বাল্যবিবাহ হতে যাচ্ছে এমন একটি খবর চাই। খবরটি পাওয়া মাত্রই রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের সাথে আলাপ করে নিজেই  গেলাম মেয়ের বাড়িতে। গিয়ে দেখি বাড়িটিতে কেউ নেই। ভাবলাম হয়তো কেউ মিথ্যা খবর দিয়েছে।

এমন সময় পেয়ে গেলাম দুই ছোট ভাইকে। তাদের কাছে জানতে চেয়েই পেলাম বিয়ে বাড়ির ঠিকানা। গোপনে বিয়ে দিতে, মেয়ের চাচার বাড়িতে নিয়ে বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে।

একদিকে অন্ধকার রাত, অন্যদিকে  নদীর কূল দিয়ে যেতে হবে দূরে। কি আর করা,  রওনা দদিলাম। যদি একটি মেয়ের জীবন রক্ষা করা যায়।
যাওয়ার পথে  একটু ভয়ও লাগছিলো, কারন নদীর কূলে নিরব এলাকা। মেয়ের চাচার বাড়িতে গিয়ে দেখলাম সত্যি একটি বাল্যবিবাহের আয়োজনে ব্যস্ত  মেয়েটির পরিবারের লোকজন। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েটিকে বিয়ে করতে হাজির পাত্রসহ বরযাত্রীরাও।
সাংবাদিককে দেখে কিছু লোকের প্রশ্ন, ‘কে খবর দিয়েছে আপনাকে?’ একের পর এক ফোন আসতে লাগলো। ভাই আমি ওমুক।  আমিও পরিচয় দিলাম। পরিচয় পেয়ে ফোনের ওপর পাশ থেকে সুন্দর ভাষায় বললেন , ‘ভাই দেখেন গরীব মানুষের মেয়ে, বিয়েটা দিয়ে দেওয়া যায় কিনা।’

বলাম অবশ্যই হবে যদি মেয়ের ১৮বছর হয় তা হলে, নয়তো বিয়ে হবে না।
কিছু সময় পরে আসলেন ৬নং ওয়াডের মেম্বার কোরবান মন্ডলের ফোন। তিনিও একি কথা বললেন। তাকেও বললাম আপনি যদি বলেন যে ১৮ বছর হয়ে গেছে ঠিক আছে। আপনি এসে বসে থেকে বিয়ে দিয়ে যান সমস্যা নেই। মেম্বার সাহেব কোন উত্তর দিতে পারলেন না।

কিছু সময় পরে আবার সাবেক মেম্বার জোসন তিনিও ফোন করলেন। অবশ্য তিনি বললেন, ‘আপনি যা বলবেন তাই হবে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
আবার কিছু সময় পরে ফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে একজন বললেন, ‘ভাই ভালো আছেন আমি…জি ভাই বলেন।  তিনি বললেন, ‘কোরবান মেম্বারের সাথে কথা হয়েছে তিনি বলছেন সকালে আপনার আর আমার জন্য ব্যবস্থা করবে আপনি চলে আসেন।’

আমি তাকে উত্তরে বললাম ভাই আমি ব্যবস্থার মধ্যে নেই, এধরনের কথা আমাকে বলবেন না। তিনি আর কিছু না বলে ফোন কেটে দিলেন।
আমি জানি ভালো কাজে অনেক বাধা আসবে এটা নতুন কিছু নয় তবুও সেটা মেনেই সাংবাতিকতা করছি। নিজেকে একজন সৎ সাংবাদিক হিসাবে প্রতিষ্ঠত করার চেষ্টা করছি মাত্র।

শেষপর্যন্ত মেয়েটির চাচা বন্ধ রাখলেন বেআইনি ও মেয়েটির জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বাল্যবিবাহ।

লেখক: সাংবাদিক।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

Meraj Gazi

জনপ্রিয় পোস্ট

রামকান্তুপুর ইউয়িনের মোহনশাহ’র বটতলার গোল চত্বর এর উদ্বোধন

‘অবশেষে বন্ধ হলো একটি বাল্যবিবাহ’

আপডেটের সময় : ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৬

খন্দকার রবিউল ইসলাম: রাজবাড়ীর মিজানপুর ইউনিয়নের মাইছা ঘাটা এলাকার ৬নং ওয়ার্ডে একটি বাল্যবিবাহ হতে যাচ্ছে এমন একটি খবর চাই। খবরটি পাওয়া মাত্রই রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের সাথে আলাপ করে নিজেই  গেলাম মেয়ের বাড়িতে। গিয়ে দেখি বাড়িটিতে কেউ নেই। ভাবলাম হয়তো কেউ মিথ্যা খবর দিয়েছে।

এমন সময় পেয়ে গেলাম দুই ছোট ভাইকে। তাদের কাছে জানতে চেয়েই পেলাম বিয়ে বাড়ির ঠিকানা। গোপনে বিয়ে দিতে, মেয়ের চাচার বাড়িতে নিয়ে বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে।

একদিকে অন্ধকার রাত, অন্যদিকে  নদীর কূল দিয়ে যেতে হবে দূরে। কি আর করা,  রওনা দদিলাম। যদি একটি মেয়ের জীবন রক্ষা করা যায়।
যাওয়ার পথে  একটু ভয়ও লাগছিলো, কারন নদীর কূলে নিরব এলাকা। মেয়ের চাচার বাড়িতে গিয়ে দেখলাম সত্যি একটি বাল্যবিবাহের আয়োজনে ব্যস্ত  মেয়েটির পরিবারের লোকজন। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েটিকে বিয়ে করতে হাজির পাত্রসহ বরযাত্রীরাও।
সাংবাদিককে দেখে কিছু লোকের প্রশ্ন, ‘কে খবর দিয়েছে আপনাকে?’ একের পর এক ফোন আসতে লাগলো। ভাই আমি ওমুক।  আমিও পরিচয় দিলাম। পরিচয় পেয়ে ফোনের ওপর পাশ থেকে সুন্দর ভাষায় বললেন , ‘ভাই দেখেন গরীব মানুষের মেয়ে, বিয়েটা দিয়ে দেওয়া যায় কিনা।’

বলাম অবশ্যই হবে যদি মেয়ের ১৮বছর হয় তা হলে, নয়তো বিয়ে হবে না।
কিছু সময় পরে আসলেন ৬নং ওয়াডের মেম্বার কোরবান মন্ডলের ফোন। তিনিও একি কথা বললেন। তাকেও বললাম আপনি যদি বলেন যে ১৮ বছর হয়ে গেছে ঠিক আছে। আপনি এসে বসে থেকে বিয়ে দিয়ে যান সমস্যা নেই। মেম্বার সাহেব কোন উত্তর দিতে পারলেন না।

কিছু সময় পরে আবার সাবেক মেম্বার জোসন তিনিও ফোন করলেন। অবশ্য তিনি বললেন, ‘আপনি যা বলবেন তাই হবে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
আবার কিছু সময় পরে ফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে একজন বললেন, ‘ভাই ভালো আছেন আমি…জি ভাই বলেন।  তিনি বললেন, ‘কোরবান মেম্বারের সাথে কথা হয়েছে তিনি বলছেন সকালে আপনার আর আমার জন্য ব্যবস্থা করবে আপনি চলে আসেন।’

আমি তাকে উত্তরে বললাম ভাই আমি ব্যবস্থার মধ্যে নেই, এধরনের কথা আমাকে বলবেন না। তিনি আর কিছু না বলে ফোন কেটে দিলেন।
আমি জানি ভালো কাজে অনেক বাধা আসবে এটা নতুন কিছু নয় তবুও সেটা মেনেই সাংবাতিকতা করছি। নিজেকে একজন সৎ সাংবাদিক হিসাবে প্রতিষ্ঠত করার চেষ্টা করছি মাত্র।

শেষপর্যন্ত মেয়েটির চাচা বন্ধ রাখলেন বেআইনি ও মেয়েটির জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বাল্যবিবাহ।

লেখক: সাংবাদিক।